Ads Top


যশোর ইনস্টিটিউটের ই-বুক লাইব্রেরি কার্যক্রম বন্ধের পথে

শিল্প সংস্কৃতির কেন্দ্র যশোর ইনস্টিটিউট এখন জীর্ণদশায়। পূর্ববঙ্গের প্রথম পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠা হয়  যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি। লাইব্রেরি গবেষক অধ্যাপক শরীফ হোসেনের কাছ থেকে জানা যায়, এখনকার ভবনের পাশের এক ছাপরাঘরে লাইব্রেরিটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। তারপর দিন দিন লাইব্রেরিটিই হয়ে উঠেছিল যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল। লাইব্রেরিটি ঘিরে ১৯০৯ সালে টাউন হল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নিউ আর্য থিয়েটার ও টাউন ক্লাব। ১৯২১ সালে গড়ে তোলা হয় বি সরকার মেমোরিয়াল হল। এখন এটি তসবির মহল নামে পরিচিত। বি সরকার ঘূর্ণমান মঞ্চটি এখানেই। 

নেতৃত্ব শূন্যতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকায় ইনস্টিটিউটের নাট্যকলা, শিশু চিত্তবিনোদন কেন্দ্র ও ক্রীড়া বিভাগে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আর দেখভালের অভাবে এবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির ই-বুক লাইব্রেরি। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে ই-বুক লাইব্রেরির কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে এতে দুই হাজারের বেশি দেশী বিদেশী লেখকের বই আপলোড দেয়া হয়।  রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই যশোর ইনস্টিটিউট ই-বুক লাইব্রেরি থেকে উন্মুক্তভাবে বই পাঠ ও ডাউনলোডের সুযোগও রাখা হয়। এটি চালুর পর হাজারও অনলাইন পাঠক যশোর ইনস্টিটিউট ই-বুক লাইব্রেরি থেকে বই পাঠ ও ডাউনলোড করতে থাকেন। ই-বুক লাইব্রেরিটির বদৌলতে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠতে থাকে উপমহাদেশের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান যশোর ইনস্টিটিউট। তবে যশোর ইনস্টিটিউটের ই-বুক লাইব্রেরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২ আগস্ট ই-বুক লাইব্রেরিটির ডোমেইন হোস্টিংয়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর এই ডোমেইন হোস্টিংয়ের মেয়াদ শেষের আগে যদি এটির নবায়ন না করা হয় তাহলে ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে ছিটকে পড়বে যশোর ইনস্টিটিউট ই-বুক লাইব্রেরি। খোজ নিয়ে জানা গেছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখে জেলা প্রশাসন যশোর ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পর্ষদ নিবার্চন বন্ধ করে দেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। 

যশোর ইনস্টিটিউটের ই-বুক লাইব্রেরি নিয়ে আলাপ করা হলে পাঠাগার বিভাগের সাবেক সম্পাদক এস নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, পাঠাগার সম্পাদক থাকাকালীন অবস্থায় ইনস্টিটিউট বান্ধব এক আইটি কর্মী ওয়াসিম হোসেনের সহায়তায় ই-বুক লাইব্রেরিটি চালু করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে কয়েক হাজার বই আপলোড দেয়া হয়। তিনি বলেন, ই-বুক লাইব্রেরিটি বন্ধ হতে যাচ্ছে খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটিকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী। এ বিষয়ে আইটি কর্মী ওয়াসিম হোসেন জানিয়েছেন, দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরের সুপ্রাচীন পাবলিক লাইব্রেরির একটি ই-বুক লাইব্রেরি ও ওয়েবসাইটের হালনাগাদ নিয়মিত করা হতো। বর্তমানে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেটা আর করা হয় না।  যশোর ইনস্টিটিউট ই-বুক লাইব্রেরি বিষয়ে জানতে চাইলে পাবলিক লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) আবু জাহিদ বলেছেন, তহবিল সঙ্কটের কারণে নৈকট্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আর ই-বুক লাইব্রেরির ডোমেইন হোস্টিংয়ের মেয়াদ শেষের দিকে, এ বিষয়টি আমি সম্প্রতি অবগত হয়েছি। শীঘ্রই এ বিষয়টি যশোর ইনস্টিটিউটের প্রশাসক হুসাইন শওকতের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাব। সরকারের ভিশনের সঙ্গে ইনস্টিটিউটের যে পথচলা ছিল সেটি বিঘ্নত হতে যাচ্ছে। সময় থাকতে বরাদ্দ পাস ও ডোমেন হোস্টিং রিনিইউ না করলে সাইট ও ই-বুকের প্রতিটি ডাটা হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে প্রযুক্তিবিদরা।   

সম্প্রতি বাংলা একাডেমিও যশোর ইনস্টিটিউটের আদলে একটি ই-বুক লাইব্রেরী চালু করেছে। কিছুদিন আগে ই-বুক লাইব্রেরিটির উদ্বোধনও করেছে বাংলা একাডেমি। 
Powered by Blogger.