Ads Top


NTRCA হতে সুপারিশ পাওয়া বা নতুন এমপিও হওয়া শিক্ষকরা অনলাইনে এমপিও আবেদন করবেন যেভাবে


গত পোষ্টে লিখেছিলাম NTRCA (এনটিআরসিএ) সুপারিশ পাওয়া শিক্ষক প্রত্যাশীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করবেন যেভাবে। আজ লিখবো যারা এনটিআরসিএ হতে সুপারিশ হয়ে যোগদান করেছেন অথবা সরকার নতুন এমপিও ঘোষনা করার পর সেসব শিক্ষক কিভাবে এমপিও হবেন বা বেতনের সরকারী অংশ পাওয়ার জন্য কিভাবে আবেদন করবেন।

এমপিও আবেদন করতে হবে অনলাইনে: 

কোন আবেদনকারীকে আর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হবে না। কারো সাথে যোগাযোগও করতে হবে না। প্রতিষ্ঠান প্রধান অনলাইনে যথাযথভাবে আবেদনটি আপলোড করলেই হলো। আর আবেদনটি কোন পর্যায়ে আছে তা অনলাইনে দেখার জন্য ড্যাসবোর্ড আছে। অনলাইনে আবেদন করার পর উপজেলা শিক্ষা অফিস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (কাগজ-পত্র ঠিক থাকলে) আবেদনটি ফরোয়ার্ড করে দিবে জেলায়, এরপর বিভাগীয় ও ঢাকা অফিস। নয়তো (কাগজ-পত্রের ঘাটতি থাকলে) রিজেক্ট করে প্রতিষ্ঠানে ফেরত পাঠাতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ফেরত পাঠানোর যৌক্তিক কারণ মন্তব্য কলামে উল্লেখ থাকবে। 

 (এমপিও) করার জন্য অনলাইনে আবেদনের  ধাপসমুহঃ-

১. নতুন নিয়মে কোন দালালে হাতে টাকা দেয়ার দরকার নাই। পূর্বে কাগজপত্রের হার্ড কপি ডিও ও ডিজিতে পাঠাতে হত এবং প্রত্যেক স্থানেই ফাইল আটকে রাখা বিদায় উৎকোচ দিয়ে ফাইল চালানো লাগতো, কিন্তু এখন কোন হার্ড কপি পাঠানোর দরকার নেই। কেবল অনলাইনে এমপিও আবেদন পূরণ করে দিতে হবে।

২. অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের জন্য আপনার যা যা দরকার হবে তা জানার জন্য এই লিংক/ঠিকানা হতে ফরমটি ডাউনলোড করে কয়েকবার পড়ে নিন এবং (*) চিহ্নিত ফিল্ডগুলোতে যা যা চেয়েছে সেই সকল ডোকুমেন্ট রেডি করুন।

৩. যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জনবল কাঠামো সম্পর্কে জানার আগ্রহ আছে তারা এই ঠিকানায় গিয়ে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে কয়েক বার পড়ে নিন।

৪. এমপিও আবেদন পূরণের জন্য আপনার দরকার প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাহায়তা। দক্ষ কম্পিউটার অপারেটরের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ডোকুমেন্ট (কাগজপত্র) স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় স্থানে attachment করতে হবে।

৫. প্রথমে অনলাইনে আবেদনের জন্য ই.এম.আই.স ঠিকানায় প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে সংরক্ষিত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করলে এমপিও আবেদন ফরম আসবে। বছরের যে কোনো দিন এমপিওর জন্য অনলাইন আবেদন পাঠানো যায়। লিংক এ ক্লিক করুন 

৬. অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণকালীন স্ক্যান করে রাখা (ছবি সহ যা যা দরকার) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যা ২ নং পয়েন্টে বলা হয়েছে) আপলোড করতে হবে। ফরম পূরণ শেষে আবেদনটি প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর ফরোয়ার্ড করবেন/পাঠাবেন।

অনলাইনে আবেদনের জন্য প্রয়োজনী ডকুমেন্ট/কাগজপত্র যা স্ক্যান করতে হবে। 

১। প্রতিষ্ঠানের প্যাড়ে আবেদন লিখতে হবে যাকে ফরওয়ার্ডিং লেটার ও বলে। যাতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির স্বাক্ষর থাকতে হবে। 
২। নিয়োগ ও যোগদান পত্রের স্ক্যান কপি।
৩। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় প্রত্রিকার স্ক্যান কপি।
৪।নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলপত্র।
৫।গর্ভনিং কমিটি/ পরিচালনা পরিষদেরর কপি 
৬। প্রতিষ্ঠানের প্রথম ও শেষ স্বীকৃতির কপি
৭।প্রতিষ্ঠানের প্রথম ও শেষ MPO এর কপি
৮।নিয়োগ সর্ম্পকিত রেজুলেশন ( সিন্ধান্ত থেকে নিয়োগ)
৯। শেষ বেতন বিলের কপি ( যদি স্কুল & কলেজ হয় তবে বেতন বিল দিতে হবে সাথে যেটা গত মাসের সকল শিক্ষকের এমপিও বিল)
১০। শিক্ষকদের তালিকা প্রত্যেকের স্বাক্ষর সহ। নতুন পুরাতন, আবেদনকারী সহ। 
১১। প্রতিষ্ঠানেরর অবস্হান সর্ম্পকিত স্হানীয় চেয়ারম্যান/ মেয়রের সনদ।
১২। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও শেষ পরীক্ষার মার্কশীট, শিক্ষক নিবন্ধনের সার্টিফিকেটসহ। 
১৩। বিষয় অনুমোদনের কপি।
১৪। পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
১৫। mpo আবেদন নিজ হাতে পূরন ও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির স্বাক্ষর গ্রহন করে তার স্ক্যান কপি।
১৬। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
১৭। শাখা থাকলে তার অনুমোদন কপি
১৮। ব্যাংক হিসাব নম্বর ও হিসাব খোলার সময় প্রথম টাকা জমাদানের রশিদ। 
১৯। শূন্য পদে আবেদন হলে আগে যে শিক্ষক ছিলেন তার ব্যাংক একাউন্ট ক্লোজ ও এমপিও নাম কর্তন সার্টিফিকেট যেটা ব্যাংক দিবে।   
বিঃ দ্রঃ সকল কাগজপত্রই স্ক্যান করা লাগবে। যেহেতু অনলাইন আবেদন। আপনার প্রতিষ্ঠানে শুধু হার্ডকপি জমাদিতে হবে।

পরবর্তীতে আপনার আবেদনটি যে যে প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবেঃ-

• যেসব আবেদন ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল, জুন, আগস্ট ও অক্টোবর মাসের ১০ তারিখের মধ্যে 
• উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে ফরোয়ার্ড করা হবে কেবল সেসব আবেদন পরবর্তী 
• (জানুয়ারি, মার্চ, মে, জুলাই, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর) মাসের জন্য বিবেচনা করা হবে।

২. আবেদনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

৩. মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত আসা আবেদনগুলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ দশ দিনের মধ্যে (২০ তারিখের মধ্যে) হয়তো ফরোয়ার্ড নয়তো রিজেক্ট করতে হবে (যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে)।

৪. উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে মাসের ২০ তারিখের মধ্যে আসা আবেদনগুলো সর্বোচ্চ দশ দিনের মধ্যে (৩০ তারিখের মধ্যে) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফরোয়ার্ড অথবা রিজেক্ট করতে হবে ।

৫. কোনভাবেই কোন আবেদন ফেলে রাখার সুযোগ নেই। আর ৩০ তারিখের মধ্যে আসা আবেদনগুলো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ পনের দিন সময় রাখা হয়েছে মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের জন্য। অর্থাৎ পরবর্তী মাসের ১৬ তারিখের মধ্যে এসব আবেদন চূড়ান্ত হবে। আর প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্রের ঘাটতি থাকলে আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেও আবেদন প্রতিষ্ঠানে ফেরত যেতে পারে।

Powered by Blogger.